
বিরল দর্পণ:
দিনাজপুরের বিরলে কাজিপাড়া গ্রামের চিত্র বদলে দিয়েছে পোল্ট্রি শিল্প। প্রায় সব বাড়িতেই ছোট বড় গরু-মুরগির খামার রয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে পোল্ট্রি খামার। চাকুরির পিছনে না ঘুরে শিক্ষিত তরুনরা এগিয়ে যাচ্ছেন ও সাবলম্বি হচ্ছেন মুরগির খামার করে। এখানকার উৎপাদিত মুরগির ডিম স্থানীয় চাহিদা পূরন করে চলে যাচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। স্থানীয় সমবায় ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সার্বিক সহযোগীতা করছে নতুন উদ্যোক্তা তৈরী করতে।
বিরল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল বিলাইমারী কাজিপাড়া গ্রাম। এই গ্রামের যুবকরা চাকুরির পিছনে না ঘুরে গত কয়েক বছরে বেশ জোরে সরে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পোল্ট্রি শিল্প। প্রায় বাড়ি বাড়ি গড়ে উঠেছে কৃষি খামার। যার বেশির ভাগই খামারে উৎপাদন হচ্ছে মুরগির ডিম। বর্তমানে ডিমের দাম ভালো থাকায় বেশ লাভবান হচ্ছেন তারা। এই খামারে অনেক বেকারদের কর্মসংস্থান হয়েছে। আবার অনেকেই হাতে-কলমে শিখে উদ্যোক্তা হচ্ছেন। মাত্র একটি গ্রামেই কুড়িটিরও বেশি ফার্মে উৎপাদন হচ্ছে ডিম। প্রতিটি ফার্মে ৫ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার পর্যন্ত মুরগি রয়েছে। এই সব খামার খাবার থেকে শুরু করে মুরগির পানি পান করা পর্যন্ত অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার হয়েছে। এখানকার উৎপাদিত ডিম চলে যাচ্ছে স্থানীয়সহ শহরের ছোট বড় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে।
উপজেলা সমবায় অফিসার হাফিজুর রহমান জানান, সমবায় অফিসের পক্ষ থেকে দলগত ভাবে সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে বেকার যুবকদের সাবলম্বি করা হচ্ছে। কাজিপাড়া গ্রামের বেশিভাগ উদ্যোক্তাই সমবায় সমিতির সদস্য বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আখতারুজ্জামান জানান, ১ হাজার লেয়ার মুরগির একটি খামার থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। স্থানীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর মুরগির খামার তদারকিসহ সার্বিক সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।
শুধু বিরল উপজেলায় প্রায় ১০০ টি ডিম উৎপাদনকারী মুরগির খামার রয়েছে। যেখান থেকে প্রতিদিন পাঁচ লক্ষাধিক মুরগির ডিম স্থানীয় চাহিদা পূরন করে বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
Leave a Reply