বিরল দর্পণ ডেস্কঃ
দিনাজপুরের বিরলের বিখ্যাত লিচু নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষক ও বাগানীরা। বৈরী আবহাওয়ার কারনে এবার লিচুর ফলন নেই বাগান গুলোতে। যতটুকু ফলন এসেছে, সেটুকু বাঁচাতেই বাগানে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। তবে দাম ভাল পেলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে উঠবে বলে জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে লিচু চাষিদের কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী কিটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের।
লিচুর রাজধানী দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ রঙ্গের লিচু। এ উপজেলায় ছোট-বড় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। যা থেকে প্রতিবছর লিচু উৎপাদন হয় প্রায় ১৫ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ও ১টি পৌরসভায় লিচুর বাগান বেশি রয়েছে। মাদ্রাজী, বম্বাই, বেদানা, চায়না থ্রী, হাড়িয়া, কাঁঠালীসহ বিভিন্ন জাতের লিচু হয় এখানে।
এবার আবহাওয়া অনুকুলে না থাকায় লিচুর ফলন নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন চাষী ও বাগানীরা।
এছাড়াও ফলনের সাথে সাথে লিচুর লক্ষমাত্রা নিয়েও রয়েছে সঙ্কা। অসময়ে বৃষ্টিপাতসহ শীলা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে উপজেলার বেশিরভাগ বাগানের লিচু। পাশাপাশি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে উৎপাদন খরচ।
কৃষক ও বাগান চাষীরা জানান, কৃষকের এবার মরার উপর খারার ঘা হয়ে দাড়িছে। তবে যতটুকু ফলন রয়েছে দাম ভাল পেলে ক্ষতি কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠবেন বলে জানালেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুমান আক্তার জানান,
লিচুর ফলন বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সেই সাথে লিচুর উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রনে রাখতে নিয়মানুযায়ী কিটনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিলেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
বাজারে লিচু আসতে এখনো মাসখানেক বাকি। তাই লিচু চাষীদের লোকসানের মুখ থেকে বাঁচাতে বাজার ব্যবস্থাপনাসহ লিচু রপ্তানীর জন্য এখন থেকেই সরকারী বেসরকারী ভাবে পরিকল্পনার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।